১৯৭৬ সালেও রেকর্ড হয়েছিল রতন কাহারের গান, তখনও স্রষ্টা হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি

0
117

বিশ্বজিৎ মান্না

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে ২১ দিনের লকডাউন চলছে। এখন মানুষের কাছে বিনোদন মানে টিভি আর ইন্টারনেট। সেই ইন্টারনেটেই কয়েকদিন আগে ঝড় তুলেছে Rapper বাদশার একটা গান। সোনি মিউজিক ইন্ডিয়ার ব্যানারে প্রকাশিত সেই গেন্দাফুল গানটি জনপ্রিয়া, বিতর্ক – সমস্ত দিক থেকেই এখন ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। মূলত এপার বাংলা এবং ওপার বাংলার বাঙালিদের মধ্যে এই গানটি নিয়ে একটু বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। গানটি ইতিমধ্যে ইউটিউবে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ভিউজের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।

বাদশার গানের বিশেষত্ব হল, এতে রয়েছে একটি পুরোনো বাংলা গানের একটি লাইন, “বড় লোকের বেটি লো, লম্বা লম্বা চুল, এমন মাথায় বেঁধে দেবো লাল গাঁদা ফুল”। গানের এই অংশটি নিয়েই উঠছে বিতর্ক। অভিযোগ, বাদশার গানে এই বাংলা গানের লাইন ব্যবহার করা হলেও তার প্রকৃত গীতিকার এবং সুরকারকে ন্যূনতম সম্মানটুকু দেওয়া হল না।

গানটির গীতিকার এবং সুরকার কে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ছবি দেখা যাচ্ছে না। তবে মূলত যে দাবি, রাঢ় বাংলার শিল্পী রতন কাহার নামে এক প্রবীণ শিল্পী এই গানটি লিখেছেন এবং সুরও দিয়েছে। বাদশার এই গানের দৌলতে রাতারাতি তিনিও প্রচারের আলোয় এসে পড়েছেন। সম্প্রতি ২৪ ঘন্টাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রতন কাহার জানিয়েছেন, গানটি আমার লেখা। আমারই সুর করা। এবার মানুষ যদি বেইমানি করে কি করব? আমি অত্যন্ত গরিব মানুষ। অনেকেই আমার গান ব্যবহার করেছেন। অথচ আমার নাম দেননি।

এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এ উল্লেখযোগ্য বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে তা হল, এই প্রথমবার বাদশা যে তার গান ব্যবহার করলেন, এমনটা নয়। অতীতে বহুবার তার গান এইভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ ন্যূনতম সৌজন্যতাবোধ দেখিয়ে রতন কাহারের নাম উল্লেখ করা হয়নি। রতন কাহার জানান, সম্ভবত ১৯৭২ সালে তিনি গানটি লিখেছিলেন। প্রসারভারতীতে তিনি প্রথম গানটি গেয়েছিলেন। রতনবাবুর কথায়, পরে আমি গানটি আনন গোষ্ঠীর রাজকুমার সাহাকে দিয়েছিলাম। ওনারা কোরাস গাইতেন। পরে ১৯৭৬ সালে স্বপ্না চক্রবর্তী গানটা রেকর্ড করেন। সেখান থেকেই গানটি ছড়িয়ে পড়ে। স্বপ্না চক্রবর্তী গানটি লিখে নিয়ে গিয়েছিলেন আমার খাতা থেকে। কিন্তু পরে গানটি আমার লেখা ও সুর করা বলে কোনোভাবেই স্বীকার করা হয়নি। গানটি রেকর্ড হওয়ার বহু আগেই আমি আকাশবাণীতে গেয়েছিলাম।

সিউড়ির বাসিন্দা রতন কাহার এক সময় বিড়ি বেঁধে সংসার চালাতেন। এখন অবশ্য তাকে সেসব করতে হয় না। তার দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। আপনার গান আপনার নাম না দিয়েই রেকর্ড হয়ে গেল, এর প্রতিবাদ করেননি? এই প্রশ্নের জবাবে রতনবাবু বলেন, করেছি তো। বহুবার করেছি প্রতিবাদ। কিন্তু আইনী লড়াই করার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমার নেই। এদিকে গানটি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা পৌঁছেছে বাদশার কানে। ম্যাশাবলের একটি রিপোর্ট থেকে জানি গিয়েছে, তিনি রতন কাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করা চেষ্টা করছেন। তার পাশাপাশি এও বলা হয়েছে, গানটি রেকর্ড করার আগে খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, এটির (বড় লোকের বিটি লো) কপিরাইট ছিল না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here