হোম কোয়ারেন্টাইনের গুরুত্ব ফের একবার সামনে এল

0
81

দৈনিক কলকাতা ডেস্ক

করোনাভাইরাসে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মোট ২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, তাদের মধ্যে ১২ জনই কোনো না কোনোভাবে তিনটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এবং এদের প্রত্যেকেরই বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে। এর ফলে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে চিকিৎসকরা বার বার করে যেভাবে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিংয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করছেন, সেটার তাৎপর্য ফের একবার আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।ইউকে থেকে ফেরত আসা তিন ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকেই ১২ জনের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে। এবং এর জেরে ৪৫ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছিল। যদিও তাদের মধ্যে অনেকের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই পরিবারগুলি যদি আর একটু দায়িত্ববান আচরণ করত, তাহলে এই ভাইরাসের বিস্তার আরও কার্যকরীভাবে প্রতিরোধ করা যেত।

যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত বালিগঞ্জের এক যুবকের দেহে গত ২০ মার্চ করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। সেটাই ছিল রাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের প্রথম নজির। তার বাবা-মা এবং বাড়ির কাজের লোকের মধ্যেও এই মারণ ভাইরাস ছড়ায়। তার পরিবারের এগারো জন সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। এর পর গত সপ্তাহে ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির দেহে কোভিড-১৯ পাওয়া যায়। এগরায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের গিয়ে তিনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে। পরে তার পরিবারের দুই সদস্যদের মধ্যেও এই ভাইরাস পাওয়া যায়। গত ২৭ মার্চ তেহট্টের একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের শরীরে মারণ ভাইরাস পাওয়া যায়। ইউকে ফেরত এক আত্মীয়র থেকে তাদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়েছিল। দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে তারা জড়ো হয়েছিলেন। করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতে গোটা দেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও এই পরিবারের সদস্যরা তা মান্য করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন ভাইরোলজিস্ট অমিতাভ নন্দী বলেন, তাদের জানা উচিত ছিল, উপসর্গ না থাকলেও ইউকে থেকে ফেরত আসা প্রত্যেকের উপরেই করোনাভাইরাসের কারণে বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। কিন্তু তারা এটি অবহেলা করেন। তাদের আশেপাশে থাকা অন্যান্যদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেন। তারা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলে ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধ করতে পারতেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here