করোনাভাইরাস আপডেট: ইতালিতে একদিনে মৃত ৮১২

0
93

দৈনিক কলকাতা ডেস্ক
করোনাভাইরাস নিয়ে ইতালিতে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইউরোপের এই দেশে একদিনেই ৮১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে ইতালিতে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১১,৫৯১ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে এক লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। উদবেগের বিষয় হল, নতুন করে ৪,০৫০ জনের দেহে এই মারণ ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘন্টায় স্পেনে ৮০০ জনেরও অধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে সেদেশের মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৭,৩৪০ জন। অন্যদিকে ইরানের ১১৭টি নতুন মৃত্যুর ফলে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ২,৭৫৭ জন।
এদিকে ধীরে ধীরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শক্ত থাবা বসাতে শুরু করেছে করোনাভাইরাস। এই পরিস্থিতি উপলব্ধি করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লকডাউনের সময়সীমা ৩০ এপ্রিল বর্ধিত করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, ইতালির মতো মার্কিন মুলুকেও মহামারি সৃষ্টি করতে পারে করোনাভাইরাস। সেক্ষেত্রে প্রাণ হারাতে পারেন ১০০,০০০ থেকে ২০০,০০০ জন মানুষ। সেই আশঙ্কাকে অনেকাংশে সত্যি প্রমাণিত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ১৩০,০০০ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে, যা সংখ্যার বিচারে বিশ্বের যেকোনো দেশের থেকে বেশি।
এই মহামারি শুরু হওয়ায় পর এখনও পর্যন্ত সমগ্র বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৭০,০০০। এর মধ্যে অবশ্য ১৬০,০০০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে মারা গিয়েছেন প্রায় ৩৭,০০০ মানুষ।
নিউইয়র্কে পৌঁছালো হাসপাতাল-জাহাজ
সোমবার মার্কিন উপূকেল পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি ভাসমান হাসপাতাল জাহাজ। মার্কিন মুলূকে এই মারণ ভাইরাসের এপিসেন্টার হয়ে উঠেছে নিউইয়র্ক। তাই যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি প্রশাসন। মার্কিন নৌবাহিনীর এই জাহাজটি বর্তমানে ম্যানহাটনে নোঙর করা আছে। আল জাজিরার একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, এই জাহাজে রয়েছে ১,০০০ শয্যা। ইতিমধ্যে ভারতের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও লকডাউন জারি করা হয়েছে। সমস্ত মার্কিন নাগরিকদের বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ম্যানহাটনে পৌঁছানো মার্কিন নৌবাহিনীর হাসপাতাল-জাহাজ এখন চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। জানা গিয়েছে, ৮৯৪ ফুট লম্বা এই জাহাজে অসংখ্য অপারেটিং রুম আছে। শনিবার ভার্জিনিয়ার নরফোক থেকে রওনা দেয় এই জাহাজ।

ক্যালিফোর্নিয়াতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
ক্যালিফোর্নিরায়র গভর্নর গ্রেভিন নিউসোম জানিয়েছেন, গত চারদিনে সেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হওয়া রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে আইসিইউ পেশেন্টের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। এখনও পর্যন্ত নোভেল করোনাভাইরাসে ক্যালিফোর্নিয়াতে ১,৪২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ চার দিন আগে এই সংখ্যাটা ছিল ৭৪৬। ইন্টেনসিভ কেয়ার বেডের প্রয়োজন এরকম রোগীর সংখ্যা ২০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৯৭ জন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে সব মিলিয়ে ৫,৭৬৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
তুরস্কে মৃত বেড়ে ১৬৮
গত ২৪ ঘন্টায় তুরস্ক থেকে করোনাভাইরাসে নতুন করে ৩৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সেদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ১,৬১০ জনের দেহে এই মারণ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০,৮২৭ জন।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আর্থিক মন্দার আশঙ্কা
করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের জীবন, জীবিকা সঙ্কটের মুখে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও অন্যান্য পরিবহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। এই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অনেক অফিস, কারখানায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ। এবার অর্থনীতিবিদদের হুঁশিয়ারি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিক মন্দা দেখা দিতে পারে। অনেকে বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯২৯ সালের আর্থিক মন্দার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
গত ২৪ ঘন্টায় ফ্রান্সে মৃত ৪১৮ জন
ফ্রান্সেও ক্রমশ মহামারির আকার ধারণ করছে করোনাভাইরাস। গত ২৪ ঘন্টায় ইউরোপের এই দেশ থেকে মোট ৪১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সব মিলিয়ে কোভিড-১৯ এর কারণে ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৩,০২৪। এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন ফ্রান্সের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২০,৯৪৬ জন ভরতি রয়েছেন। এদের মধ্যে ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রয়েছেন ৫,০৫৬ জন।
ব্রিটেনে করোনাভাইরাসে মৃত বেড়ে ১,৪০৮
করোনাভাইরাসে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো ইউনাইটেড কিংডমেও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ব্রিটেনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,৪০৮। তবে এখানে মৃত্যুর হার ক্রমশ কমছে, যা একটি ভালো দিক। এর আগে একদিনে ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল ব্রিটেনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here